আজ : বুধবার, ২২ আগস্ট ২০১৮,, ১১ই জিলহজ্জ, ১৪৩৯ হিজরী

আওয়ামী লীগ জয়ে হ্যাটট্রিক চায়

প্রতিবেদক:

প্রকাশ: ২০১৮-০২-১২ ০৯:২৫:৩০ || আপডেট: ২০১৮-০২-১২ ০৯:২৫:৩০

ডেস্ক : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাভোগ ক্ষমতার পূর্ণ মেয়াদ পর্যন্ত চায় আওয়ামী লীগ। কারণ, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষও খালেদা জিয়ার দুর্নীতির বিষয়টি বিশ্বাস করতে শুরু করবে। এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির দায়ে কারান্তরীণ হয়েছে, বিষয়টি মানুষ এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগ নেতারাও। সে কারণে আদালতের রায় অনুযায়ী, পাঁচ বছর কারাভোগ করলে সেটা আওয়ামী লীগের জন্য যেমন ভালো, তেমনি দৃষ্টান্তও হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন তারা।

 

 

তারা মনে করেন, খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিএনপির দুর্নীতি বেশি বেশি প্রচার করে মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করতে পারলে আওয়ামী লীগেরই লাভ। গতবারের মতো খালেদাহীন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আগামী নির্বাচনে হ্যাটট্রিক জয়ের স্বাদ নিতে পারবে দলটি।

 

 

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে এমন বক্তব্যই বেরিয়ে এসেছে। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে অনেক কিছুই নতুন হচ্ছে। এতদিন অপরাধ করলে সাজা হয় না, এমন সংস্কৃতি চালু ছিল। সেটার ব্যত্যয় হওয়ায় মানুষের মধ্যে কিছুটা সন্দেহ রয়েছে। তবে এরকম ঘটনা এখন থেকে নিয়মিত হবে। অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। সে যে পর্যায়ের কিংবা যত ছোট অপরাধই হোক শাস্তি তাকে পেতেই হবে। আওয়ামী লীগ এই ধারা চালু করে দিয়েছে।

 

 

আওয়ামী লীগ সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, খালেদা জিয়া যেহেতু সাবেক প্রধানমন্ত্রী তাই তার বিষয়টি মানতে অনেকেরই কষ্ট হচ্ছে। এটা খুব স্বাভাবিক। তবে আমরা মনে করি, আস্তে আস্তে সহনীয় হয়ে যাবে। এখন অনেকেই লাভ-ক্ষতির হিসাব করছেন। বিএনপি মনে করছে, খালেদা জিয়া জেলে গিয়ে তাদের লাভ হয়েছে। কিন্তু মানুষ যখন বুঝবে, দুর্নীতির দায়ে তিনি জেলে গিয়েছেন তখন ঠিকই মুখ ফিরিয়ে নেবে। খালেদা জিয়া সাহসাই মুক্তি পাচ্ছেন না বলেও ইঙ্গিত দেন ওই নেতা। তিনি বলেন, আমাদের জন্য এ বছরটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এ বছরের শেষে জাতীয় নির্বাচন। আমরা মাঠ গোছানোর কাজ করছি। তৃণমূল সংগঠিত করার চেষ্টা করছি। এ ক্ষেত্রে বিএনপি অনেকটা পিছিয়ে। তারা তাদের নেত্রীকে মুক্ত করার কাজে ব্যস্ত থাকবে। এখানে আওয়ামী লীগের কিছু করার নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, আদালতের বিষয়ে আমরা কিছু করতে পারি না।

 

 

এসব বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই মামলা আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হয়নি, মামলা হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়। আমরা বলেছিলাম, এই মামলায় আদালতের মাধ্যমে খালেদা জিয়া যদি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারতেন তাহলে আমরা খুশি হতাম। তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেননি বলেই তো আদালত রায় দিয়েছেন। সুতরাং এটা নিয়ে এখন আর কিছু বলার নেই।

 

 

এদিকে রায় এবং খালেদা জিয়ার বিষয়ে কম কথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল ইতালি যাওয়ার আগেও তিনি বিষয়টি নেতাদের মনে করিয়ে দিয়ে গেছেন বলে দলের একটি সূত্র জানিয়েছে। সূত্র মতে, আদালতের রায়ের ব্যাপারে কাউকে কোনো মন্তব্য না করে বরং খালেদা এবং তার সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা যেসব দুর্নীতি করেছেন সেগুলো বেশি বেশি মানুষের সামনে তুলে ধরতে বলেছেন। কারণ, খালেদা জিয়ার কারাবাস নিয়ে বেশি কথা বললে সেটা বিএনপির পক্ষে যাবে। এর আগে শুক্রবারও বিষয়টি নিয়ে বেশি কথা না বলতে মৌখিক নির্দেশনা দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। ওইদিন শেখ হাসিনা দলীয় নেতাদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, এই রায়কে ইস্যু করে সবাইকে সংযত হয়ে কথা বলতে হবে। সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে, খালেদা জিয়া যাতে কোনোভাবেই জনগণের সহানুভূতি পেয়ে না বসেন। বিএনপি চাইবে তার (খালেদা) মামলার রায় রাজনীতিকরণ করে সুবিধা আদায় করতে। এই সুযোগ তাদের দেওয়া যাবে না।

 

 

আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, খালেদার সাজা হলেও জামিনে বের হয়ে আসবেন তিনি। ফলে বের হয়ে আসার পরে বিএনপি নেতাদের প্রতিক্রিয়া বুঝে পাল্টা প্রতিক্রিয়া প্রদান করবেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। খালেদা জেলে থাকা অবস্থাকে বিচারিক বিষয় বলেই গণ্য করতে হবে। তবে জেল থেকে তিনি বের হয়ে আসলে তার দণ্ড ও দুর্নীতি নিয়ে কথা বলে জনমত তৈরি করতে কাজ করতে হবে আওয়ামী লীগ নেতাদের। নেতারা বলেন, জেলে থাকা অবস্থায় খালেদা জিয়া দুর্নীতিবাজ-সেটা মানুষকে বিশ্বাস করাতে হবে। আর জেল থেকে বের হওয়ার পর দুর্নীতিবাজ ও দণ্ডিত ব্যক্তির রাজনীতি করার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রচার চালাতে হবে।

 

 

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়ার ইস্যুটি আদালতের বিষয়। আদালতের ওপর আমাদের আস্থা আছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি করলে জেল হবে না এমন ভাবনা থেকে সবাইকে সরে আসতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে এ ধরনের ধারণা থাকলে হবে না।

 

 

দলীয় সূত্র মতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এখন থেকেই কৌশলে এগোবে আওয়ামী লীগ। প্রতিটি সভা-সমাবেশে প্রচার-প্রচারণায় গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করতে হবে সরকারের অর্জন এবং বিএনপির দুর্নীতি। এতে দেশবাসী দুর্নীতিবাজদের আর ক্ষমতায় আনবে না বলে ধারণা ক্ষমতাসীনদের।

 

 

দলের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, একাদশ নির্বাচন পর্যন্ত দিবসভিত্তিক কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে রাজপথে থাকবে আওয়ামী লীগ। এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত থাকবেন এবং আগামী নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে ভূমিকা রাখবে।

 

 

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, এখন থেকে আমাদের কর্মসূচির মূল লক্ষ্য থাকবে সরকারের উন্নয়ন এবং বিএনপির দুর্নীতি প্রচার। কারণ, নির্বাচনের জন্য খুব কম সময় বাকি আছে। এই অল্প সময়ে সারা দেশের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতে হবে। তাহলেই নির্বাচনে ফল পাওয়া যাবে।

 

 

সূত্র :পরিবর্তন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অনলাইন জরিপ

আমাদের ওয়েবসাইট আপনার কাছে কেমন লাগে?

  • ভাল (60%, ৩ Votes)
  • খূব ভাল (40%, ২ Votes)
  • ভাল না (0%, ০ Votes)
  • মন্তব্য নেই (0%, ০ Votes)

Total Voters:

Loading ... Loading ...

টিভি


ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

MonTueWedThuFriSatSun
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
   1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031 
       
   1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728    
       
    123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
       
  12345
13141516171819
20212223242526
27282930   
       
      1
23242526272829
3031     
    123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930 
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031